নোংরা কীট ও আমি

নোংরা কীট ও আমি

আমি ডুবে আছি গভীর অন্ধকারে ……
অথচ জানালার বাইরে আবছা আলো মিটমিট করে হাসছে, আজ জোছনার আলোটাকে অপরিচিত মনে হচ্ছে। ছোট্ট চিলেকোঠায়ে আমি বিছানাতে শুয়ে আছি, একাত সেকাত কিছুতেই ঘুম আসছে না। প্রতিটা রাত এই ভাবেই কাটে রাতটাকে এখন অনেক আপন মনে হয়ে। নিজেকে সময় দেওয়ার জন্য উপযুক্ত সময়। কল্পনা, ভাবনা সবকিছুই নিজের মতো চিন্তা করা যায়।

সারাদিন দৌড়া দৌড়ী করতে করতে অনেক ক্লান্ত কিন্তু ঘুম আসছে না। রাত শুধুই গভীর হচ্ছে, ভাবছি একটা সিগারেট টেনে ভালোই আরাম পাওয়া যাবে। তারপর বিছানা থেকে উঠে বাতিটা জ্বালালাম সাথে সিগারেটও ধরালাম। মুখ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে দেখতে ভালোই লাগছে সাথে মনে হল ক্লান্ত ভাবটা ক্রমেই দূর হচ্ছে। হঠাত আমার চোখ পড়লো আমার চিলেকোঠার দেয়ালে, সারা দেয়াল জুড়ে মাকড়সা জালে ভরে গেছে সাথে আরও নাম না জানা অনেক পোকা মাকড়। দেখতে খানিকটা ভালোই লাগছিল পরোক্ষনেই চিন্তা করলাম আমার বাস এই নোংরা কীট-পতজ্ঞের সাথে। যেটা মানুষ খুব অপছন্দ করে। আমিও করতাম কিন্তু এখন পোকামাকড়ের কামড় সহ্য হয়ে গিয়েছে। কামড় না খেলে পেটের ভাত হজম হয় না।

বিছানায় রোজ রাতে শুয়ে থাকি একটু ঘুমের আশাই কিন্তু, ঘুম আমার চোখে ধরা দেয় না। বাইরে ঝিঁ ঝিঁ পোকার আওয়াজ কানে বাজে। ঝিঁ ঝিঁআওয়াজ শুনতে শুনতে পরিচিত হয়ে গিয়েছি। মাঝে মাঝে ভাবি, পোকাদের এই ঝিঁ ঝিঁ আওয়াজের ভাষাটা যদি বুজতাম তাহলে কতইনা ভালো হতো। অন্তত তাদের psychology বুজতে পারতাম। এইসকল উদ্ভট চিন্তা করতে করতে সিগারেট শেষ করে বিছানাতে শুয়ে পরলাম। কিছুক্ষণ পর দেখলাম পোকাদের ভাষা বুজতে পারছি তারা কে কিভাবে কথা বলছে তাও শুনতে পাই কিন্তু আমি তাদের সাথে কথা বলতে পারছি না। হঠাত আমার ঘুমটা ভেঙ্গে গেল মোবাইল ফোনের আগমনী সুরে। ফোনটা কানে ধরতেই ওপাশ থেকে বলেই গেল আর আমি শুনেই গেলাম, কিছুই বলতে পারলাম না।

আসলেই স্বপ্নটাই বাস্তবে রূপ নিল পোকাদের ভাষা বুঝেছি, আমার ভাষা বোঝাতে পারিনি। চিলেকোঠায়ে নোংরা কীট ও আমার বসবাস। নিজেকেও পোকা ভাবতে শুরু করেছি, ঝিঁ ঝিঁ পোকা।