দিপুর হ-জ-ব-র-ল প্রশ্ন (২য় পর্ব)

দিপুর হ-জ-ব-র-ল প্রশ্ন
ইদানিং দিপুর বেশ বেগ পেতে হচ্ছে জীবনযাপনে। যেখানে দিপুর খাওয়া-দাওয়া, মোজমাস্তির কমতি ছিল না সেই দিপুই নাকি এই সকল পছন্দের বিষয়ের প্রতি অনীহা প্রকাশ করছে। মিতার অপ্রত্যাশিত চলে যাওয়াই হয়তো দিপুর মনঃকষ্টের কারণ। সব কিছুই কেমন যেন স্বাদহীন, বর্ণহীন, রসবিহীন সময় কাটছে দিপুর। হ-জ-ব-র-ল কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজবার জন্যই আজকাল দিপু প্রকৃতি প্রেমিক হওয়ার সাধনায় নেমেছে (সাধক লালন সাঁই তার সৃষ্টিতে সৃষ্টি করেছেন... সময় গেলে সাধন হবে না...হবে না)।

দিপুর ধারণা, প্রেম-ভালোবাসা প্রকৃতির দান। এই দানকে কেউ ধরে রাখতে পারে আবার কেউ ধরে রাখতে বেরথ হয়। সম্ভবত, দিপু হ-জ-ব-র-ল প্রশ্নের উত্তর চায় প্রকৃতির কাছ থেকে। কিন্তু প্রকৃতির এই নিষ্ঠুর আচরণ দিপুর ধরজের বাঁধ ভেঙ্গে দেয়ার উপক্রম হয়ে পরেছে। যথাসম্ভব দিপু জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে...তার চেষ্টার কর্মগুলো এমন ছিল- কোলাহলমুক্ত, নীরব স্থান, খোলা মাঠ কিংবা নদীর পারে বসে বসে সূর্য ডোবা দেখা। ঠিক এই যখন অবস্থা, দিপুর স্বভাবে কিছুটা পরিবর্তনের ছায়া লক্ষ্য করা যায়। একা একা থাকার একটা ভালো অভ্যাস নতুন যোগ হয়েছে। সাথে সাথে আরও কিছু অতিরিক্ত অভ্যাসও আয়ত্তে আসে। অতিরিক্ত অভ্যাসের মধ্য- রাত জাগা, দিনের বেলায় মরা ঘুম দেয়া, গোমড়া মুখ করে বসে থাকা, ছেঁকা খাওয়া গান শোনাও বেড়ে যাওয়া এবং সিগারেট পানের মাত্রা তো বেড়েছেই।

ঠিক ঘড়িতে দুপুর ১:২৩ বাজে। এই মাত্র দিপু আড়মর ভেঙ্গে ঘুম থেকে উঠলো। রাতে ভালো ঘুম হয়নি তার চোখের নিচে কালো দাগই তার প্রমাণ দিচ্ছে। দুপুরের নাস্তা (সকালের নাস্তা) কোন মতে সেরে বাইরে বের হলো। সেই রাত থেকে ছবির হাটের টং দোকানের চা পান করার জন্য তার মন ইটিস পিটিস করছিলো। তাড়াহুড়োর ফলে মানি ব্যাগটাও বাসায় ফেলে এসেছে। পূর্ব পরিচিত মামা হওয়ার কারনেই চা পান করার দুশ্চিন্তা কাটলো। গত তিন-চার মাস আগে চামামার বাকীর হিসেব খাতায় নিজ নামের হিসাব জেড় টেনেছিল, কিন্তু আজ আবার সেই হিসেব খুবলে বলে মনঃস্থির করেছে দিপু। চামামার রং চা মিতার খুব পছন্দের ছিলো, দিপু চায়ের কাপ হাতে নিয়েই বেঞ্চে বসে চুমুক দিচ্ছে। এই চমামা আর তার হাতে বানানো চা দিপুর প্রেম

ইতিহাসের প্রধান সাক্ষী বলেই মনে করে দিপু।

অন্যদিকে মিতা বেশ আনন্দেই আছে। সামনে মিতার বিয়ে, হবু বর মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানির আইটি ডিপার্টমেন্টের হেড। তার মাইনেও বেশ উচ্চমানের। মিতাকে আর ঠেকায় কে? মিতাতো খুশিতে বাকবাকুম। দিপু নামের ছেলেটার কথা ভুলবার পথে, এতো সুখ সে কোথায় রাখবে সেই চিন্তায় মিতার ঘুম হারাম। বিয়ের জন্য কেনা কাটা নিয়ে ব্যাপক বেস্ত সময় কাটাচ্ছে মিতা। সবকিছুই খুব স্বাভাবিকভাবে চলছে। তার দৈনিক কাজের মধ্যে একটা বাড়তি কাজ যোগ হয়েছে- রূপ সৌন্দরজ বর্ধনে বেশ সোচ্চার হয়ে দৈনিক মুখমণ্ডলে পেস্তিং করে থাকে।

যাইহোক, এদিকে দিপু চা পান পর্যায় শেষ করে খোলা মাঠে প্রকৃতির প্রেমিক হওয়ার বাসনায় নেমে পরেছে। আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি যে, আজ তার হ-জ-ব-র-ল প্রশ্নের হ-জ-ব-র-ল উত্তর পেয়েছে।

১. প্রশ্ন: প্রকৃতি তুমি আমায় যে প্রেম-ভালবাসার অনুভূতি দিয়েছিলে তা কেনই বা আবার কেড়ে নিলে?
উত্তর: তুমি এক কথায় বেরথ প্রেমিক। তোমার সেই ভালোবাসাকে আঁকড়ে ধরবার মতো কোন শক্তি ছিল না।

২. প্রশ্ন: এখানে কি আমিই শুধু বেরথ??? অপর পক্ষের কোন অবদান কি ছিল না?
উত্তর: অবশ্যই তুমি বেরথ। অপর পক্ষের দোষ খুঁজে তার উপর চাপানোটা বোকামি ছারা কিছুই না। তুমি তারে ধরে রাখতে বেরথ বুজলে।

৩. প্রশ্ন: তাহলে ভালোবাসা বলে সেই অনুভূতির কি কোন মূল্য নেই?
উত্তর: মূল্য অবশ্যই আছে। কিন্তু সেই মূল্যটা তোমাকেই তৈরি করেতে হতো। তোমার অবশ্য প্রয়োজনীয় উপকনেরে অভাব ছিল।

৪. প্রশ্ন: এখন আমি কি করবো?
উত্তর: চিন্তার কোন কারণ নেই, প্রকৃতির নিয়মানুযায়ী তোমার ভালোবাসা আবার তোমায় ফিরিয়ে দেয়া হবে। হয়তো সেই মানুষটা আলাদা হতে পারে। তবে সেই সময় কখনোই বেরথতার পরিচয় দিয়ো না।

অবশেষে দিপু দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাসার উদ্দেশে রওনা দিলো।

(ধরাযাক, মিতার কিছু চাহিদার কমতি ছিল- এই যেমন- সে দিপুর কাছে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগত, পারিবারিক ঝড়-জঞ্জারও কম ছিল না। সর্বোপরি, তাদের ভালোবাসা উত্তর জানালা দিয়ে বাতাসের সাথে নির্গত হয়েছে)

আমার পাঠকদের বলছি, আপনার জীবনেও হয়তো এরকম ঘটনা ঘটেছে কিংবা ঘটতে পারে, এর জন্য বিচলিত হওয়ার কোন দরকার নেই। প্রাথমিক অবস্থায় আপনার দিন-রাত্রিগুলো কিছুটা দিপুর মতো কাটতে পারে। ধীরে ধীরে সব আপনার আয়ত্তে চলে আসবে। আর মনে রাখবেন প্রকৃতি আপনার ভালোবাসা ফিরিয়ে দিবেই তবে সেই সময় আপনার উচিৎ হবে সেটাকে গ্রহন করা। বিদায়ী ভালোবাসার জন্য আগত ভালোবাসাকে ফিরিয়ে দেয়া অথবা অবহেলা করা অনুচিত হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এই ঘটনা কিংবা ঘটনার চরিত্র সম্পূর্ণ কাল্পনিক। যদি বাস্তবে কারও সংগে মিলে যায় তাহলে তা কাকতালীয় কিংবা বকতালীয় বলেই উড়িয়ে দিবেন। ধন্যবাদ।


২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
রাত: ২:৫২