দিপুর ভালোবাসা দিবস (১ম পর্ব)

১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩
রাত: ২:৫০

দিপুর ভালোবাসা দিবস (১ম পর্ব)

মিতার ফোন পেয়েই দিপুর ঘুম ভাংলো। আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। প্রত্যেক কপোত-কপোতী চায় আজ দুজন একসাথে ঘুরতে বের হবে। মিতাও চায় তবে কি যেন গুরুত্বপূর্ণ কথা বলবে বলল। যাইহোক, দিপুর অবশ্য দেখা করার তেমন ইচ্ছে ছিলো না। কি আর করার মিতার কথা রাখার জন্যই বের হবার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এদিকে বিকেলটা অনেক শান্ত। সূর্যের কাঁচা রোঁদ এখনও ঝলমলে। দিপু ঠিক সময়ে বাসা থেকে বের হোল। গন্তব্বের স্থান সেই কফিশপে। মানে তাদের প্রথম যে কফিশপে দেখা হয়েছিলো। হঠাৎ করেই দিপুর মনে হোল আজ মিতাকে একটা লাল গোলাপ দিবে। অবশ্য এর আগে কখনো দেয়া হয়নি। কিন্তু হায়! আজ তো লাল গোলাপের চাহিদা অন্যরকম, যেন সোনার হরিণ। অন্যদিকে মিতা মানুষিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে দিপুকে আজ বলবেই।

ঠিক বিকেল ৪ টা ২৩ মিনিটে মিতা কফিশপে পৌঁছে গেছে। এদিকে দিপুর খানিকটা বিলম্ব... কারণ হোল- সেই লাল গোলাপ... অশেষে লালা গোলাপ নিয়েই কফিশপে পৌঁছে গেলো। যথারীতি দিপুর বিলম্বের জন্য কিছু কথা হজম করতে হচ্ছে পাশাপাশি লাল গোলাপ যেন ঝালটা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর দিপু কফি কাপে চুমুক দিতেই মনে পড়লো কি যেন বলবে মিতা। মিতাকে মনে করিয়ে দিতেই মিতা কিছুটা ইতস্তত ভঙ্গিমায় কথা বলতে শুরু করলো... মিতার কথাগুলো এমন ছিলো- শোন দিপু, আমি অনেক ভেবে-চিন্তে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর সেই সিদ্ধান্তের কথাটাই তোমাকে বলবো। আমি আমাদের সম্পর্কের ইতি টানতে চাচ্ছি।

দিপু সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চাইলে মিতা জানিনা বলেই উড়িয়ে দিলো। দিপু অবশ্য কারণটার ব্যাখ্যা জানতে বাধ্য করেনি। দিপুর ভাবনায়- যে চলে যেতে চায়, তার দেয়াল হবার কোন যৌক্তিকতাই নাই। তবে দিপু খানিকটা বুঝতে পেরেছে আসল কারণটাই বা কি ছিলো। মেয়েরা সাধারণত একটা জায়গায় নিজ স্বার্থের কড়া হিসেব কষে থাকে।

দিপু হয়তো কিছুই বলতে পারছে না কিংবা বলার ভাষাও তার জানা নেই। তবে দিপুর কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিল মিতা।
 প্রশ্ন এবং উত্তরগুলো নিন্মে দেয়া হলঃ

১. প্রশ্নঃ এই তিন বসরের সম্পর্ক আরেকটু ভেবে দেখবে?
উত্তরঃ আমি অনেক ভেবে-চিন্তেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
২. প্রশ্নঃ আমাকে ছারা থাকতে পারবা?
উত্তরঃ অবশ্যই পারবো। যেহেতু আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমাকে থাকতেই হবে।
৩. প্রশ্নঃ তোমার আর কিছু বলার নেই?
উত্তরঃ নাহ! এটাই বলার ছিল।

প্রশ্নপর্ব শেষ করেই দিপু ও মিতা কফিশপ থেকে বের হয়ে এলো। দিপু যথারীতি মিতার জন্য রিক্সা দেখছে। অবশেষ মিতা রিক্সায় উঠে বিদায় নিচ্ছে... দিপুর শেষ কথাটা এমন ছিলো- একটা আনুরোধ থাকবে বাসায় পৌঁছানোর পর একটা টেক্সট দিও... ভালো থেকো।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ লাল গোলাপ মিতাকে দেয়া হয়নি।




(ধরা যাক, দিপু আর মিতা দুইজন দুইজনকেই ভালোবাসে। কিন্তু, বিয়ের সময় ব্যাপারটা ঠিক উল্টো হয়ে যায়। বাস্তবতার আঘাতে যেন ভালোবাসার মৃত্যু ঘটে। কারণ হিসেবে দিপুর বেকারত্বকে দায়ী করে থাকবে কিংবা অর্থবিলাসিতার গ্রাস করে তাদের সেই ভালোবাসাকে। এদিকে মিতা এক পেটুক, মাথায় চুল কম, অভিজাতবংশীয় কোন চাচার বয়সী বরের সংগে সুখের সংসার পেতে বসে। যেখানে হয়তো ভালোবাসার ভ... ও নেই। অন্যদিকে দিপু??? হয়তো কোন এক কালো জগতের বাসিন্দা হয়ে মূর্ছা যায়।)

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এই ঘটনা কিংবা ঘটনার চরিত্র সম্পূর্ণ কাল্পনিক। যদি বাস্তবে কাহারও সংগে মিলিয়া যায় তাহলে তা কাকতালীয় বলেই ধরে নিবেন।




দিপুর ভালোবাসা দিবস (১ম পর্ব)