![]() |
| দিপুর সান্ত্বনা |
তুই কাল সকাল ঠিক ১০ টায় রাহির বাসায় থাকবি, বলে ফোন কেটে দিল জিসান। জিসান দিপুর খুব কাছের দস্ত। জিসান সম্পর্কে
দিপুর মন্তব্য- “মাথা মোটা, বিপদের বন্ধু ও হাবিলদার টাইপের” দিপু
প্রায় মাথা মোটা সম্বোধন করেই জিসানকে খ্যাপানোর বেরথ চেষ্টা করে থাকে। জিসানের
ভাসায়- “জিসানকে রাগানো আত্ত সহজ না” আবার যখন রাগে থামানোটাও
ব্যাপক কষ্টসাধ্য ব্যাপার। একবার জিসানের জন্মদিনে তার রাগের সর্বচ্চ শৃঙ্গ দেখা মিলেছিল দিপু ও
তার বন্ধুদের। মাসখানেক কারো সঙ্গে দেখাতো দূরে থাক কথাও বলেনি। অনেক জরছে চেষ্টার
ফলে সেই রাগের মাত্রা ঠাণ্ডা করতে পেরেছিল। রাহি, জিসান,
শেকুল, তানিম, ঋতু আর
দিপু মোটামুটি বুঝবার মতো বয়স থেকেই বন্ধুত্তের বন্ধনে আবিষ্ট। সেই ছোট্ট কাল
থেকেই একে অন্যের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে আছে। সবার মদ্ধে একটা ভালো রসায়নের রস আছে
তা তাদের মোজ-মাস্তি আর আড্ডার বিষয়বস্তু পরোখ করলেই বুঝবার কমতি থাকে না।
এদিকে মাথা মোটার (জিসান) কথা শুনে দিপু একটু চিন্তায় পরে গেল- এই
না জানি মিতার ব্যাপারটা জেনে ফেলেছে। অবশ্য জানবারই কথা। গতকাল ঋতু টাকে সব
বলেছিল মিতার অবস্থা। তবে যাইহোক, সকালে যেতেই হবে রাহির
বাসায়। দিপু কিছুসময় নিয়ে চিন্তা করলো- কাল হয়তো সবাই ওকে সান্ত্বনা দিবে। কার
কি রকম সান্ত্বনা দেয়ার ভাষ্য হতে পারে তাই ভাবছিল দিপু। যেমনঃ
রাহি: “মাম্মা, কি করছোস? তোর তো কপাল
খুইলা গেলো। আবার নতুন প্রেম করার পারমিশন পাইয়া গেলি” রাহিটা
এরকমই বলবে বলে দিপুর ধারণা। রাহি সম্পর্কে দিপুর এক শব্দ- “পেইনকিলার” যত কঠিন দুঃখ বা সমস্যার কথাই ওকে বলা
হোক না কেন, ওর কথার কাছে সব গোলে যায়। আজ পর্যন্ত কয়টা
প্রেম করেছে তার সঠিক সংখ্যাও তার অজানা।
শেকুল: “দস্ত, চিন্তা করিস না। সব ঠিক হয়ে যাবে। যা হইছে তা
তোর ভালোর জন্যই হইছে” শেকুল সম্পর্কে দিপুর ধারণা একটু
অন্যরকম- ওর কথা আর কাজের মদ্ধে ঈষৎ ফারাক থেকেই যায়। যেই কাজটা করবে না বলে ঠিক
করে তার ঠিক উল্টোটাই বেশি করে। প্রেম করবে বলে বন্ধুদের কাছে শপথ করেছিলো। সেই
প্রেমটাই আগে করলো।
তানিম: “মামা, এইগুলা তরে আগেই বাদ দিতে কইছিলাম। যাক এইবার
তো বুঝসস? সব বাদ দিয়া এবার ক্যারিয়ার এর দিকে নজর দে” তানিম
অবশ্য ঋতুর প্রতি কিঞ্চিৎ দুর্বল। তবে কখনো স্পষ্ট করে কিছু বলে নি। তানিমের ভয়
হয় যদি তাদের বন্ধুত্তের বন্ধনে চিঁর ধরে।
ঋতু: “শোন দিপু, তোর সামনে অনেক সময় পরে আছে। তুই ওর থেকে
আরও ভালো মেয়ে পাবি। খালি একটু চোখ-কান খোলা রাখিস” ঋতুর
সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা আছে বলে মনে করে দিপু। তবে মাঝে মাঝে ওকে অচেনাই লাগে। একটা
জিনিস দিপু ভালোই উপলব্ধি করতে পারে- ঋতুর কিছুটা হলেও তার প্রতি ভালো লাগা কাজ
করে।
জিসান: “চল মামা, মিতার সাথে দেখা করি। কিছু উপায় হইলোও
হইতে পারে” জিসান প্রেম নামক শব্দের সাথে নিজেকে না জড়ালেও এই ব্যাপারে তার
দক্ষতা ভালোই। সেই মিতাকে প্রপোজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সমস্যায় হাবিলদারের মতো
দিপুর পাশেই ছিল।
(দিপুর এতো সান্ত্বনা পাওয়ার পরও নিজেকেই নিজের সান্ত্বনা দিতে হবে।
নিজেকে সান্ত্বনা দেয়ার ব্যাপারে একটা জিনিষ মাথায় রাখা দরকার বলে আমি মনে করি-
ভুল মানুষ, হয়তো মিতা দিপুর জীবনের জন্য একজন
ভুল-মানুষের দায়িত্ব পালন করেছে। জীবন চালনায় ভুল-মানুষের অতিব জরুরি। তারাই
জীবনের একটা বাস্তবিক মূল্য কিংবা অর্থ চিনাতে সাহায্য করে থাকে।।
আমার পাঠকদের বলছি, আপনার জীবনে এইরকম
ভুল-মানুষ এসেছিলো অথবা আসবে। সেই সাথে আপনাকে এবং আপনার জীবনকে নতুনত্ব দিয়ে
যাবে। যা আপনার পরবর্তী জীবনের অর্থবহ হয়ে থাকবে)
বিশেষ
দ্রষ্টব্যঃ এই ঘটনা কিংবা ঘটনার চরিত্র সম্পূর্ণ কাল্পনিক। যদি বাস্তবে কারও সংগে
মিলে যায় তাহলে তা কাকতালীয় কিংবা বকতালীয় বলেই উড়িয়ে দিবেন। ধন্যবাদ।

