![]() |
| দিপুর ভালবাসায় হলুদ (৪র্থ পর্ব) |
সময়গুলো খুব দ্রুত চলে যাচ্ছে। দিপু তা সহজেই অনুধাবন করতে পারছে।
কি আর করা সময় তো আর দিপুর জন্য বসে থাকবে না। যেমনটি মিতার ফোনের জন্য বসে থাকে
দিপু। অনেক অনেক কথা বলতে ইচ্ছে করে, তাইতো বন্ধ
থাকা নাম্বারে ফোন দিয়ে বেরথ। কোন উপায় না পেয়ে কল্পিত মিতাকে নিজের সামনে এনে,
এভাবেই কয়েকদিন কথা চালাচ্ছে দিপু। কিছুটা সময় স্বাভাবিক থাকলেও,
খানিকবাদেই আবার কেমন যেন সব গুলিয়ে ফেলে। মিতাটা যেন কথায়
হারিয়ে যায়। বার বার হারিয়ে যায়।
মিতা...মিতা তুমি কেমন আছো? আমি তোমাকে
ভীষণরকম মিস করি। তুমি কি আমায় ভুলে গেছো? মিতা মৃদু হাসি
দিয়ে লাপাত্তা। কোথায় কোথায় বলে চিৎকার করে দিপু। একজন সত্যিকারের প্রেমিক
বোধয় এই রকমই হয়ে থাকে। অনেক অনেক পুরনো স্মৃতি ভাসে তার দু'চোখে। দিনগুলো, সময়গুলো কতো আনন্দময়, রঙিন ছিলো। আর এখন তা সব সাদাকালো বর্ণ ধারন করেছে।
মিতাকে প্রথম এক বিয়ের অনুষ্ঠানে দেখে দিপু। সেই থেকে ভালো লাগা
শুরু। প্রথমে কথা বলার সাহস না পেয়ে বন্ধু জিসানের নিকট শরণাপন্ন হয়েছিলো। বন্ধু
জিসানও কম না, বন্ধুর ভালো লাগা তার নিকট অনেক গুরুত্ব
পেয়েছিল। তারই সহযোগিতায় মিতার সাথে প্রেম যাত্রা শুরু।
অনেক ছলাকলার মাধ্যমেই মিতার ফোন নম্বর জোগাড় করেছিল দিপু। সেই থেকে
ফোনে কথা বলা, ক্ষুদে বার্তা সবকিছুই নিয়মমাফিক ভাবে
চলে আসছিলো। দুটি আত্মার বন্ধন যেন সেখান থেকেই শুরু। কতো রাগ, অভিমান, ভাললাগা, মন্দলাগা
ভাবের আদান-প্রদান ভালভাবেই চলছিলো দিপু এবং মিতার।
আজ মিতার জন্মদিন, কিভাবে তাকে এক নজর
দেখবে সেই চিন্তায় দিপুর মনটা ছটপট করছে। মিতার বান্ধবীগুলাও কেমন জেনো, কারো সাথে যোগাযোগ করে ভাল ফল পাওয়া যায়নি। অবশ্য তারা দিপুকে সেভাবে
পছন্দও করতো না। তাতে দিপুর কিছু আসে যায় না। ঠিক করলো, সরাসরি
মিতার বাসায় যাবে।
যাইহোক, ফ্রেশ হয়ে রওনা দিল মিতার
বাসার উদ্দেশে, যাওয়ার পথে থেকে একটি লাল গোলাপ নিবে বলে
ঠিক করলো। এইখানেই যেন বিপত্তি শুরু হল, আসে পাশের ফুল
দোকানে কোথাও সে লাল গোলাপ খুঁজে পেলো না। কিন্তু একটি গোলাপ তার খুবি প্রয়োজন
হয়ে পরেছে। চিন্তা করতে করতে হঠাৎ মিজান ভাইয়ের নার্সারির কথা মনে আসলো। হয়তো
তার নার্সারির অনেক গোলাপর মাঝ থেকে গোলাপ রানীকে খুঁজে নিবে।
গোলাপ তো হলো, এখন যাওয়া যাক মিতার বাসায়,
ঠিক বাসার সামনে আসতেই কিছুটা অবাক করার মতো দৃশ্য। পুরো বাড়িটা
জুড়ে আনন্দের কোলাহল। লাল, নিল, হলুদ
বাতি দিয়ে বেশ জাঁকজমকপূর্ণ অবস্থা। সম্ভবত, কোন অনুষ্ঠানের
আসর বসেছে। এতো ভিরের মাঝে মিতাকে কোথায় পাওয়া যাবে সেই কথায় ভাবছে দিপু।
কিছুক্ষণ এদিক সেদিক ঘুরো ঘুরি করার পর মনে হোল গায়ে হলুদের অনুস্থান। একি হায়!
গায়ে হলুদের মণ্ডবের ঠিক উপরে লেখা "মিতার গায়ে হলুদ" দিপু
নিজেকে সাম্লে নিয়ে একটা চেয়ারে বসে পরলো। বেপারগুলো কেমন যেন বেমানান মনে
হচ্ছে। কিছুক্ষন পর মণ্ডবের গদিতে মিতাকে বসানো হোল। কি স্নিগ্ধ হাসি ওর মুখে, প্রতিটা মেয়ের স্বপ্ন থাকে এভাবে বসবার। হয়তো মিতার স্বপ্নটা সত্যি হবার
পথে।
দিপুর অবশ্য কিছুটা খুশি আবার কিছুটা কষ্ট অনুভব করছে। দিপুর কি করা
উচিৎ তাই চিন্তা করছে। আর এদিকে সবাই কতো আনন্দের সাথে হলুদ গায়ে মাখানোর কাজে
উঠেপড়ে লেগেছে। পুরো পরিবেশটার সাথে দিপুকে বেমানান। যায়হোক দিপু ভাবল, তারও উচিৎ সেই কাজে অংশ নেয়া। সাথে সাথে চেয়ার থেকে উঠে চলল মণ্ডবের
দিকে।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এই ঘটনা কিংবা ঘটনার চরিত্র
সম্পূর্ণ কাল্পনিক। যদি বাস্তবে কারও সংগে মিলে যায় তাহলে তা কাকতালীয় কিংবা
বকতালীয় বলেই উড়িয়ে দিবেন। ধন্যবাদ।
৭ই এপ্রিল, ২০১৩
রাত- ২.২৭

