
অব্যক্ত চিঠি
জন্মদাতা (অনুভুতি’র),
হ্যাঁ আপনাকেই বলছি।
আশা করি,
একটু মনোযোগসহ কথাগুলো শোনার সাথে সাথে বোঝার চেষ্টা করবেন।
না তেমন কোন
গুরুত্বপূর্ণ কিছুই নয়। আপনার কোন কাজে কিংবা অকাজেও লাগবে না, এমন
কিছু অর্থহীন ভাবনার প্রকাশ করাই আমার মূল উপজীব্য বিষয় বলতে পারেন। আপনার কি
কখনও মনে হয় না - আপনি সচেতনভাবে কোন অনুভূতির জন্মদাতা হিসেবে গুরু দায়িত্ব
পালন করেছে? হা হা হা... কি ভাবছেন??? আকাশ
থেকে পড়লেন তো???
হুম... ব্যাপারটা সহজ
করে দেই... আপনার সচেতনতা আপনাকে নিয়েই ঘিরে ছিলো... আপনি নিজে নিজ ঘড়ে নিরাপদেই
থাকতে চেয়েছেন কিংবা থেকেছেন। কাঁদা কখনোই নিজের শরীর তো দূরে থাক আশে পাশে আসতে
দেননি। সেটাই স্বাভাবিক বলে আপনি মনে করতে পারেন। হতেই পারে আপনার অসচেতন মন কিছু
অনুভূতির জন্ম দিয়েছিলেন। তাই বলে অস্বীকার..!! অস্বীকার করাটা কতোটা হৃদয়হীনতার
কাজ তা আপনাকে কখনোই বোঝাতে পারবো না। আপনার কিছু উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য কিঞ্চিৎ
অভিনয়ে আপনি বেশ নাম কুড়িয়েছেন। আপনি কি জানেন??? সেই তুচ্ছ এবং সস্তা
অনুভূতিগুলো কতোটা খাঁটি আর প্রবিত্র ছিলো??? হা হা হা
জানবেনই বা কিভাবে??? আপনার উদ্দেশ্য তো বিদ্যমান।
অনুভূতির জন্মদাতা
আপনাকেই বলছি, মনে রাখবেন আজ হয়তো অনিচ্ছা ও অসচেতন বলে নিজ’কে জন্মদাতা পরিচয় থেকে আড়াল করে রেখেছেন, সেদিন
বেশি দূরে নেই এই অনুভূতিগুলো ছোঁয়া আপনার একমাত্র উদ্দেশ্য হবে। আপনার দাম্ভিকতা
এবং সৌন্দর্যের প্রাচুর্যতা শৃঙ্গের কোন অবস্থানে রয়েছে তা একবার খতিয়ে দেখবেন,
এরই সাথে প্রাচুর্যতার তলে থাকা উঁই পোকার দক্ষতা একবার যাচাই করে
নিবেন। বিলম্ব হলে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আপনার দাম্ভিকতা ও প্রাচুর্যতার চূর্ণ
উদ্ধার অযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারে।
আপনার উচিৎ ছিলো সেই
অনুভূতিগুলোর নিকট ক্ষমা চাওয়া। কিন্তু আপনি বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। আজ তারা
(অনুভূতিগুলো) যখন জানতে পারলো আপনার সুনিপুণ অভিনয়ের প্রশংসা এবং সেই সাথে
ছুড়েছিলেন উদ্দেশ্যের তীর। আপনার দুয়ারে তাদের অভিমান প্যাঁচানো পুষ্পস্তবক
অর্পণ করা হলো। আশাকরি আপনি সাদরে গ্রহন করে অনন্দিত হবেন।
ইতি
সস্তা এবং অনাথ
অনুভূতিসমূহ
সংবিধিবদ্ধ
সতর্কীকরণ: উক্ত অব্যক্ত চিঠি আপনার হজম প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। সুতরাং
আপনার পাকস্থলীর যথাযথ চিকিৎসা নিতে ভুল করেবেন না।
(১০ই জুলাই, ২০১৩)
