বেকারের কিচ্ছা (১ম পর্ব)



সীমানা প্রায় ঘণ্টা এক ধরে বসে আছে মিস্টার বেকার এর জন্য। বেকার! এই বেকার সেই অকর্মা ব্যক্তি অথবা অপদার্থ বস্তু নয়। এই বেকারের আকার, আকৃতি ও প্রকৃতি সবই রয়েছে। তবুও নামে তার আকার নেই, সোজাসুজি বেকার। নামের সাথে কাজের কোন অন্তমিল নেই, নেই কোন ভাসমান মিল। তবে বেকার নাম কি মানায়?

ঠিক এই বিষয়টি বেকারের মন্ডুতে অনেক দিন থেকে রাত বিচরণ করে আসছিল। অনেক ভেবে চিন্তে সমাধান খুঁজে পেয়েছে। এখন শুধু কাজে নামার সুসময়। কাজ বলতে সঠিক কাজ নয়, আবার বেঠিক কাজও নয়। তবে কি এমন কাজ?

তার কাজ ঠিক-বেঠিকের ধার ধারে না। নামের সাথে ব্যক্তির মিলন ঘটানোই তার একমাত্র উদ্দেশ্য। তবে এই উদ্দেশ্যর মাঝে কোন লুকোচুরি নেই। নেই কোন বানোয়াট, মিথ্যে সাজানো-গোছানো ঘটনা। খোলামেলায় প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, আরও চায়- তার কর্মের সাথে নামের সমতা। তবে কি বেকার, আকার থেকে বেকারে পরিবর্তন হবে?

এর মধ্যে আরেক চিন্তা কঠিন বাঁধ দিয়েছে। বেকার নিজে পরিবর্তন হবে, নাকি নাম পরিবর্তন করবে??? যদি নাম পরিবর্তন করে তাহলে ব্যক্তির সহিত মিলন ঘটবে, আর নিজেকে পরিবর্তন করে তাহলে নামের সহিত সমন্বয় ঘটবে। এই সাতপাঁচ ভেবে চিন্তে দিশেহারা অবস্থা। মনে মনে ঠিক করল, নামটাই পরিবর্তন করবে। তবে এখানেও তো অনেক ঝামেলা ঝুলে আছে। যদি এই কাজটি করেই ফেলে তাহলে তার পরিবারের সদস্যরা কেউ মেনে নিবে বলে মনে হয় না। এর বড় একটা কারন বাবা। বাবা কিছুতেই মেনে নিবে না এই পরিবর্তন। সেই জন্মের কদিন পরপরই আস্ত গরু জবাই দিয়ে এলাকার মানুষকে খাতির, যত্ন করেছিল। আর বেকারের বাবা'র কার্পণ্যের ইতিবৃত্ত জানা আছে সকলেরই। এই মুহূর্তে বাবার পকেট থেকে টাকা-পয়সা খসানো দুরূহ ব্যাপার। এর চেয়ে নিজেকে বদলে ফেলা ঢের ভালো এবং সুখময়।

ঘড়ে ডুকেই সোফার এক কোণায় ধপাস করে বসে পরল বেকার। এদিকে সীমানা হা করে টিভি দেখছে। খুব আবেগাপ্লুত অবস্থা। আমার মনে হয় হিন্দি সিরিয়ালগুলোর একটা ভালো দিক আছে, যা দর্শকের মন কেড়ে নেয়। মনোযোগ আকর্ষণ করাতে তাদের চিত্রায়ন উচু অবস্থানে রয়েছে। হঠাৎ সীমানার চোখে খেয়াল করল বেকার। একি! কান্না করছে যে! তবে কান্নার শব্দ টিভি রিমোটের মিউট বাটনের মতোই কাজ করছে। এদিকে বেকার তাৎক্ষণিক টেলিভিশনে তাকাল... ও ... কি!! স্বামী, স্ত্রী গালে এই যেন কষে চড় বসাবে। ওদিকে খালার ছেলে লাবলু বেকারের দিকে তাকিয়ে হাসছে... আর সীমানা তার কান্নার কাজটি পালন করছে। আচমকায় টিভি, ফ্যান বন্ধ হয়ে গেল, অহ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছে (লোড শেডিং) সীমানা তার কান্নার আওয়াজ ধরে রাখতে পারলো না। সশব্দে কান্না করছে। বেকার হঠাৎ সমাধান দিল, "সীমানার বান্ধবী রূপবান কে ফোন দিয়ে জানতে, আসলেই কি চড় খেয়েছিল?" সীমানা দৌড়ে মোবাইল ফোন টা কোথায় রেখেছে তা খুঁজতে এঘরে থেকে সেঘরে।

বেকার কিছুটা স্বস্তি পেল, আর মনে মনে ভাবছে- কতো বড় একটা সমস্যার সমাধান দিয়ে দিল। এই সমাধানটি অবশ্য তাৎক্ষণিক আবিষ্কার হয় নি। গত ফুটবল বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলা ছিল- স্পেন ভার্সেস নেদারল্যান্ড। সেই খেলা দেখার সময় ঠিক এই রকম উত্তেজনা বিরাজ করেছিল বেকারের। ওই মুহূর্তের টানটান উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে ছিল এই বিদ্যুৎ। সমাধানটি তখনই আবিষ্কার করেছিল বেকার।

বেকারের কিচ্ছা ২য় পর্ব

বেকারের কিচ্ছা - ৩য় পর্ব