বেকারের কিচ্ছা – ২য় পর্ব



কিছুদিন ধরে বেকার বেশ কাজের মধ্যে ব্যস্ত রয়েছে। ব্যস্ততা ক্রমশই বেড়ে চলছে। তাঁর ব্যস্ততার একটা নমুনা উল্লেখ্য করা যায়, যেমন- গার্লস কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। কেন দাঁড়িয়ে থাক তাঁর কারণতা কেউ না জানলেও সীমানা ভালই উপলব্ধি করেছে। গার্লস কলেজে ছেলেরা কেন দাঁড়িয়ে থাকে তা তো কারও বুঝতে বাকী থাকে না। যে কেউই নগদে ধরে ফেলে তার কারণটা।

সেদিন সীমানাদের কলেজের সামনের দোকানে বসে বসে চা পান করছিল। যখন কলেজ ছুটি হল ঠিক সেই সময় বেকার তাঁর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি কলেজের গেটের দিকে তাক করে ছিল। যখন সীমানা আর তাঁর বান্ধবীরা একসাথে দলবেঁধে বেড়িয়ে আসছিল, তখনি সীমানা বেকারকে ধরে ফেলে। দূর থেকে ইশারা দিয়ে কাছে যেতে বলে সীমানা। বেকারও অমনি যেন টিকেট পেয়ে গেল। একদম তাদের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।

এখানে কি করছিস? কারও প্রেমে-ট্রেমে পরিস নি তো?
আরে নাহ। এদিক দিয়েই যাচ্ছিলাম।
তাই না! আমি তো তোকে প্রায় দেখি এখানে দাঁড়িয়ে হা করে কলেজের গেটের দিকে তাকিয়ে থাকিস।
হুম! এর মাঝে দুই একদিন আসা হয়েছিল।
বাই দ্যা ওয়ে, ওদের সবাইকেই তো চিনিস। আমার স্কুল ফ্রেন্ড ছিল।
হুম।
আর ও হচ্ছে সেঁজুতি। কলেজ ফ্রেন্ড। (একদম এক ডানা কাটা পরীর মতো দেখতে)
অহ।

কিছুক্ষণ কুশল বিনিময় সেরে বেকার নিজের পথে চলে গেল। আর মনে মনে ভাবছে, সেঁজুতি মানে আলো যা অন্ধকারকের দূর করে। বিলিয়ে দেয় আলোর সৌন্দর্য। নামের সাথে মেয়েটার রূপেরও এক অদ্ভুত মিল রয়েছে। তাঁর রুপ-লাবণ্যও যেন সৌন্দর্যকে নতুন ভাবে সংজ্ঞায়িত করে। একে দিয়েই কাজ হবে। এই সব চিন্তা করতে করতে কিছুটা সস্তি পেল বেকার। অবশ্য এখনি কোন সিদ্ধান্তে যাওয়া যাবে না। কিছুদিন পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। আর তা করতে হবে একদম নিখুদভাবে। সীমানা হল বেকারের খালাতো বোন। তবে তাদের বয়েসের কিছুটা পার্থক্য থাকলেও সম্পর্কটা বন্ধুসুলভ। দুই বছর সাত মাস তের দিনের বড় বেকার। সেজান ভাই, সীমানার বড় ভাই। সে হিসাবে সেও খালাতো ভাই বেকারের। তাঁর বয়স প্রায় ত্রিশ ছুঁইছুঁই। ভাল চাকরী করে ঢাকার বড় এক কোম্পানিতে। দুই বছর আগে থেকেই তাঁর বিয়ে নিয়ে টুকটাক মেয়ে বাছাই পর্ব শুরু হয়েছিল। কিন্তু এই পর্বটা এতটাই দীর্ঘ যে তা দুই বছর কেটে যাবে কেউ চিন্তা করতে পারেনি। এই সময়টুকুতে অনেক মেয়েকেই দেখেছেন সেজান ভাই। তবে তাঁর মনে ধরলেও খালা অথবা খালুর মনে ধরে না। আবার খালা-খালুর পছন্দ হলেও সেজান ভাইয়ের অপছন্দই থেকে যায়। বেশ কিছু মেয়েকে দেখতে বেকারও অংশগ্রহন করেছিল।

ঢাকা শহর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নর শহর। নিত্য দিন-রাত এমনকি মধ্যরাতেও কারেন্ট লুকোচুরি খেলে। এমনি এক মধ্যরাতের ঘটনা। সেদিন বেকার সেজান ভাইয়ের সাথেই ছিল। ছাদে বসে বসে যখন তারা গুনছিল সেজান ভাই, একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, বুঝলিরে বেকার! আমার কপালে বিয়ে নেই। আর কতদিন একা একা থাকবো। বলতে পারবি?

সেজান ভাইয়ের প্রশ্ন শুনে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বেকার উত্তর দিল, ভাইয়া তুমি এতো ভেঙ্গে পরলে কেন? বিয়ের নাকি ফুল ফুটে। যখন ফুল ফুটবে তখনি বিয়ে হবে। এতো দুশ্চিন্তা কেন করছ? আর আমি তো আছি তোমাকে একটা রূপবতী বৌ এনে দিব।

সেজান ভাই কিছুই বলল না। তাঁর মনের কোণে এক পাহার সম দুঃখ যেন তাকে নিরাশ করে দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। এর বাইরে তিনি কিছুই চিন্তা করতে পারছেন না। তাঁর সেই দুঃখকে মলিন করার জন্যই বেকার বেশ ব্যস্ত হয়ে পরেছে। রীতিমতো মেয়ে দেখা শুরু করেছে। রাস্তায় যখন বের হয় মেয়েদের দিকে তাকিয়ে দেখতে থাকে আর কল্পনা করে সেজান ভাইয়ের সাথে মানাবেতো? এই হিসাব কষতে কষতে তাঁর দিন যায়।

সেঁজুতিকে দেখেও একই কল্পনা করে পরোখ করে নিয়েছিল। বেকারের হিসাব অনুযায়ী ৯৯.৯৯% মানাবে। তাঁর সৌন্দর্যের কাছে সেজান ভাই অবশ্যই ধরা খাবে। এই বিশ্বাস জন্মে গেছে বেকারের মনে মনে।