শেষ পরিণতি

আজ থেকে কিছু বছর পরেও কিছু ব্যাপার কি এখনকার মতো থাকবে? থাকবে না। কারণ কিছু দিন আগেও যে জানালার বাহিরে একটি রক্তজবা ফুল গাছের চারা দেখা যাচ্ছিল, তা এখন অনেক বড় আর অনেক রক্তাক্ত বর্ণের ফুলের সমাহার নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। দাঁড়িয়ে তার নব যৌবনের উচ্ছ্বাস প্রকাশে কুণ্ঠিত বোধ করে না। লোকে তাকে নিয়ে নানান কথা বলে, তার সৌন্দর্যের বর্ণনা ঘর থেকে ঘরে ছড়িয়ে পরে। এতে করে একটি প্রচার হচ্ছে বটে, কিন্তু তা খুব সাময়িক সময়ের জন্য। তাকে সব কিছুর থেকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়। সেই জবা কারো কারো কেশের মাঝে গচ্ছিত হয়, কেশের সৌন্দর্যের উদাহরণ দেবার প্রয়োজন পড়ে না। কারণ, রূপবতীদের কেশের মাধুর্য সেই প্যারিসের আইফেল টাওয়ারকে টপকিয়ে চিনের মহাপ্রাচীরে গিয়ে থামবে। কিংবা মিশরের পিরামিডে তা রক্ষিত থাকবে অনন্তকাল। বছর ঘুরে ঘুরে যে বা যারা আসবে দুনিয়াতে তারাও দেখবে, বুঝবে কিন্তু কখনো আপন করতে পারবে না। আপন করার শক্তি তাদের মদ্ধে থাকবে না। তারা তা জেনেও এর সমাধা করতে উৎসাহিত হবে না। সুন্দরকে সুন্দর বলেই ক্ষান্ত। তাকে মূল্যায়ন করার যোগ্যতানামক শব্দটি হারিয়ে যাবে সেই সাগরের অতলে যেখানে টাইটানিক নামক মস্ত বড় জাহাজ তলিয়ে যায়, সেই সাথে তলিয়ে যায় নায়ক রোজ, শুধু নায়িকা ভেসে থাকে, অনন্ততকাল পর্যন্ত ভেসে থাকার জন্য।



এই একই গল্প ঘুরে ফিরে আসবে ঘরের বারান্দায়, এসে শুনে যাবে সেই গল্পের নায়ক আর নায়িকার এক রোমাঞ্চকর কাহিনী। তবে যেখানেই মৃত্যু হয় এক পাতালপুরীর গল্পের উপসংহার। ধাবিত করে অন্যকে, অন্যের জন্য আরেকজনকে। যেখানে অপমান হল-শেষ পরিণতি।