বেকারের কিচ্ছা - ৩য় পর্ব




বেকারের দিনকাল বেকার যাচ্ছে। তাই নিয়ে দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। কী করবে, কী করা যায় তা নিয়ে বেশ হৈচৈ তাঁর মাথার ঘিলুগুলো। অনেক অনেক চিন্তার পর একটি কাজ করার মনঃস্থির করতে পেরেছে। তবে বেকার মনে করে এই কাজটি সমাজের সু-শৃঙ্খলা বজায় রাখবে।

একটি ভ্রাম্যমাণ কাজী সার্ভিস চালু করবে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে এই সার্ভিস প্রদান করবে। এতে লাভের চেয়ে লস হবার সম্ভাবনাই সবচে বেশি। তবে লস মেনে নিতে রাজি আছে বেকার। তার এই কাজটি যে মহৎ উদ্দেশ্যে করছে তা সে মনে প্রাণে বিশ্বাস করেদিনকে দিন মানুষের ভালোবাসা চিঠির গণ্ডি পেরিয়ে ল্যান্ডফোন, মুঠোফোন এমনকি চ্যাট-ফ্যাট ছাড়িয়ে উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। আর যতই উন্মুক্ত হচ্ছে ততই এর বাঁধন ঢিলা হচ্ছে। এমন ঢিলার ঢিলা যে একটু টান পড়লেই ছিরে ছারখার হয়ে যাচ্ছে। আর সমাজে নানা রকমের বি-শৃঙ্খলা বিরাজ করছে।

এই কাজের জন্য প্রথমে কিছু সেচ্ছায় কাজ করতে ইচ্ছুক এমন কিছু ছেলে মেয়ে খুঁজে বের করতে হবে আর একজন কাজী সাহেব হাতে রাখতে হবেএখন এই ব্যাপারে একজন রয়েছে যে কিনা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারে। সীমানা সাথে এই মহৎ কাজের কথা বিস্তারিতভাবে আলোচনায় বসবে বেকার

ঢাকা শহরের এমন কিছু কিছু স্থান রয়েছে যেখানে প্রেমিক-প্রেমিকারা নির্জনতায় নিজেদের প্রেমের মহিমা খুঁজতে চেষ্টা করে। প্রেমের বাঁধনকে পোক্ত করতেও তাঁরা সচেষ্ট থাকে। আবার পরিচিতের কাছে ধরা পড়বার ভয়ও থাকে। এতো কিছুর মাঝে প্রেম করা আবার মাঝে মাঝে মুশকিল হয়ে পরে। এই যখন অবস্থা, তখন বেকার চায়- প্রতিটা প্রেমিক-প্রমিকার বাঁধন শক্ত হয়ে থাক। এর জন্যই এই মহৎ কাজে হাত দেয়া।

শুরুটা ঢাকার কোন এক লেকের নির্জন ঝোপ-ঝাড় থেকে শুরু করেছে। এমনি এক ঝোপে প্রেমিক-প্রেমিকা তাদের প্রেমকে গাঢ় করছে, সেই মুহূর্তে বেকার ও তাঁর ভ্রাম্যমাণ কাজী সার্ভিসহাজিরবেকার একাটা কাশি দিয়ে তাঁদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করে, কিন্তু পর পর দুইবার ব্যর্থ হয়ে ৩য় বার ঠিকই দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। বেকার তাঁদের বলল, “ভাই এবং আপা আপনাদের সাথে কিছু কথা আছে, দয়া করে আমায় কিছুটা সময় দিন। বিরক্তি মাখা মুখের ছাপ নিয়ে তাঁরা বলল, “কী বলবেন বলেন। একটা নোট খাতা ব্যাগ থেকে বের করে বেকার কিছু প্রশ্ন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রেমিকটি বলল, “আচ্ছা আপনারা কোন খাবারের অফার নিয়ে আসছেন! আমার লাগবে না। আমরা এমনেই খাওয়া-দাওয়া কম করি। দেখেন না! আমারা দুই জনই পুষ্টিহীনতায় ভুগছি। বেকার তাঁদের কে তাঁর মহৎ কাজের সারমর্ম বুঝালো। এই মহৎ কাজের অন্যতম ব্যাপারটি হল- স্পট ম্যারিজ। মানে আকাশ, বাতাস, গাছ-পালা, ফুল-ফল এবং লেকের পানি সহ দুই জন সাক্ষী রেখে তাঁদের সম্পর্কটা শক্ত করা। কিন্তু এখানেই বিপত্তি! প্রমিকা রাজি থাকলেও প্রেমিক রাজি নয়।

অতঃপর এই মহৎ কাজের ফলাফল অনেক সম্পর্ক শক্ত হবার বদলে ছিঁড়ে ছিঁড়ে টুকরোয় পরিনিত হল।

বেকারের কিচ্ছা – ২য় পর্ব

বেকারের কিচ্ছা - ১ম পর্ব